কোকোর বৈশ্বিক বাজারে স্বল্প থেকে মধ্যম মেয়াদে দরপতনের পূর্বাভাস

বিশ্বব্যাপী কোকোর দাম স্বল্প থেকে মধ্যম মেয়াদে ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী কোকোর দাম স্বল্প থেকে মধ্যম মেয়াদে ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দাম কমার পেছনে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে বৈশ্বিক কোকোবাজারে উদ্বৃত্তের সম্ভাবনা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান রাবোব্যাংকের গবেষণা শাখা রাবোরিসার্চ। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

একটি গবেষণা প্রতিবেদনে কমোডিটি বিশ্লেষক ওরান ভ্যান ডর্ট বলেন, ‘২০২৪-২৫ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী কোকো উৎপাদনের বড় ধরনের পুনরুদ্ধার না হলেও অতিরিক্ত উদ্বৃত্তের পূর্বাভাসের কারণে স্বল্প থেকে মধ্যম মেয়াদে দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে তা ২০২৩ সালের আগের স্তরের তুলনায় বেশি থাকবে।’

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে, সম্প্রতি কোকোর দাম বেড়েছে। এ কারণে পশ্চিম আফ্রিকার বাইরের অঞ্চলগুলোয়ও চাষ বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। এমনকি ২০২৭-২৮ মৌসুম নাগাদ বড় ধরনের দরপতন ঘটতে পারে।

ওরান ভ্যান ডর্ট আরো জানান, কোকো বিক্রিতে আইভরি কোস্ট ও ঘানা সরকার ফার্মগেট মূল্য”নির্ধারণ করে দিয়েছে। একুয়েডর, নাইজেরিয়া বা পেরুর মতো অন্যান্য দেশে এ ধরনের সরকারি মূল্যনির্ধারণ ব্যবস্থা নেই। ফলে এসব দেশের কৃষকরা আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে বেশি আয় করতে পারেন। এতে ভবিষ্যতে কোকো উৎপাদন আইভরি কোস্ট ও ঘানা থেকে অন্যত্র সরে যেতে পারে, যা বিশ্ব কোকোবাজারের জন্য একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, যদি নতুন গাছ লাগানোর হার পশ্চিম আফ্রিকার উৎপাদন হ্রাসের হারকে ছাড়িয়ে যায়, তবে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ভবিষ্যতে বাজারে উল্লেখযোগ্য হারে দরপতন হতে পারে।

ভ্যান ডর্ট বলেন, ‘নতুন রোপণ করা চারা গাছগুলো তিন-চার বছরের মধ্যে ফলন দিতে শুরু করবে। ফলে ২০২৭-২৮ মৌসুম থেকেই বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ দেখা যাবে।’

রাবোরিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী কোকো উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টনে। এর মধ্যে আইভরি কোস্টে উৎপাদনের পরিমাণ হতে পারে ১৭ লাখ ৮০ হাজার টন, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ১ লাখ ৬ হাজার টন বেশি। তবে এটি অক্টোবরের পূর্বাভাসের তুলনায় অন্তত দুই লাখ টন কম। এ সময় ঘানায় উৎপাদন ৫ লাখ ৯০ হাজার টনে পৌঁছতে পারে, যা গত মৌসুমের ৫ লাখ ৩০ হাজার টনের তুলনায় বেশি। প্রতিবেদনে একুয়েডরের পাঁচ লাখ টনে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

এছাড়া নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুনের উৎপাদন যথাক্রমে হতে পারে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ও ৩ লাখ ৫ হাজার টন।

আরও